Skip to content

আমার জীবনের সোনালী দিনগুলি

Posted in Nostalgia

Share

আমার জীবনের সোনালী দিনগুলি কাটিয়েছি সীতাকুন্ডে। চাকুরী সুত্রে বাবার পোস্টিং হয়েছিল সেখানে। সীতাকুন্ড কি সুন্দর। একদিকে বিশাল চন্দ্রনাথ পাহাড়, মাঝখানে সমতল ভুমি, একটু পশ্চিমে এগুলেই বিস্তির্ন সমুদ্র। এর মাঝেই গ্রামের দিকে এক বাড়ীতে থাকতাম আমরা। বাড়ির পাশেই ছোট্ট একটা পুকুর। ওটার তিন দিক ঘিরে ছিল বিভিন্ন গাছ গাছালির জংগল। সেই ছোট পুকুরে পানিফল গাছের পাতার উপর ডাহুক তার বাচ্চাগুলো কে নিয়ে হেটে বেড়াতো। দুপুরে ঘুঘু গুলি কি সুন্দর ভাবে ডাকতো। বাসা থেকে একটু দুরেই ছিল একটা বট গাছ।সেটাতে প্রচুর হড়িয়াল কিচমিচ করতো।আর দুরের দিঘিতে ছিল পানকৌড়ি।

সব ছাড়িয়ে আর একটা জিনিস যা ছিল আমাদের মিলন মেলা আর ঢাকার সাথে আমার একমাত্র যোগাযোগ। সেটা সীতাকুন্ড রেল স্টেশন। আমাদের এলাকায় তখনো কলের ব্যাবস্থা ছিল না। একটা টিউবওয়েল তাও ইচ্ছা করেই ব্যবহার করতাম না। স্টেশন এ ছিল ট্যাপ কল। আমরা সব বন্ধুরা মিলে সকালে যেতাম মুখ ধুতে। সেখানেই সারাদিনের পরিকল্পনা।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার ” ঢাকা মেল” তখন স্টেশন এ থামতো। সে ট্রেনেই হটাৎ পেয়ে যেতাম চট্টগ্রাম গামী কোন পরিচিত জন।

আমার স্কুল জীবন ঃ

তখন আমার বয়স ৭ বৎসর। আব্বা আমাকে নিয়ে গেলেন প্রাইমারী স্কুলে। সরকারি চাকুরে হিসাবে হেড মাস্টার বেশ সমীহ করে আব্বাকে বসতে বললেন। আব্বা কিছুটা গম্ভীর গলায় হেড মাস্টার কে বললেন ” ছেলেটাকে দিয়ে গেলাম, হাড্ডি আমার মাংস আপনার”। এই বলে তিনি আমাকে স্কুলে রেখে চলে গেলেন। প্রাথমিক শিক্ষার অনেকটাই আমার মায়ের কছে পড়া।তাই মাস্টার সাহেব আমাকে ক্লাস থ্রি তে ভর্তি করে নিলেন। এবার ক্লাস করার পালা। শুরুতেই ক্লাস শিক্ষক আঞ্চলিক ভাষায় আমার নাম পরিচয় জানলেন। তারপর কাছে ডেকে নিয়ে দু আনা পয়সা আমার হাতে দিয়ে বললো,দোকান থেকে এক প্যাকেট বিড়ি আর দিয়াশলাই কিনে আনতে।আমি ক্লাস থেকে বের হলাম।বাইরে কেউ নেই, সব রুমেই ক্লাস হচ্ছে। আমি একমাত্র ব্যাতিক্রম হিসাবে গর্বের সাথে স্যারের বিড়ি কিনতে দোকান মুখি হলাম।

ঘন্টা পড়লো। শুরু হলো দ্বিতীয় পিরিওড, ইংরেজি। স্যার ক্লাসে এসে শব্দার্থ পড়াচ্ছেন। শুরু করলেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায়।” ক ছে ওশন মানে কি “? আমি তো অবাক। এমন শব্দ কখনও শুনিনি। সাহস করে স্যারকে অর্থ জিজ্ঞাস করলাম। স্যার আবারো আঞ্চলিক ভাষায় একটা গালি দিয়ে বললো ” ওশন ন বুঝিলি! ওশন হইয়ে যে দইজ্জা “।আমি তাও বুঝলাম না। তখন আমার এক বন্ধু আমাকে ফিসফিস করে বললো, দরিয়া মানে সমুদ্র। এভাবেই শুরু হলো আমার আঞ্চলিক ভাষায় ইংরেজি শিক্ষা।

সব শেষে শুরু হলো ধর্ম ক্লাস। স্যার ক্লাসে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ” বলতো খলিফা কাদের বলা হয়ে থাকে?” এইটা আমার কমন পড়লো। কারন আমাদের বাসার পাশেই এক দর্জি থাকতেন। আঞ্চলিক ভাষায় দর্জিকে খলিফা বলে।আমি দাঁড়িয়ে উত্তর দিলাম ” যে কাপড় সেলাই করে”।বিনিময়ে গালির সাথে কিছু বেতের বাড়ি খেলাম। এভাবেই শেষ হলো আমার স্কুলের প্রথম দিন। অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটা ছোট ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। সেই দরজির স্ত্রীর নাম ছিল ” নীহারি”। নামটা মনে আছে, তার কারন আমার ছোট বোন সুসান এর কল্যাণে। আমি ওনাকে চিনতাম না, আমার বোনকে জিজ্ঞেস করলাম, “উনি কে?” আমার বোন উত্তর দিলো। “চিনলা না! উনি হচ্ছে নীহারির জামাইয়ের বৌ।

This is one of the childhood stories from a series of short tales written by my father. I really admire these posts because it gives me a perspective, through my father’s eyes, on how things were and what a child/young adult’s life was like in rural and even urban Bangladesh during the 60s and 70s.

Share

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *