Skip to content

ঘুড়ি ও সুতার গল্প

Posted in Nostalgia

Share

তখন আমারা ঋতু ভেদে একেকটি খেলা খুব খেলতাম। তার মধ্যে শরৎকালে ছিলো ঘুড়ি উড়ানোর ধুম। আকাশে সব বন্ধুদের রঙ বেরংগের ঘুড়ি। আকাশে চলতো ঘুড়ি কাটাকাটির যুদ্ধ। কাটাকাটি খেলার জন্য দরকার ধারালো সুতা। সুতাকে ধার করার প্রক্রিয়াকে বলা হত “সুতায় মাঞ্জা দেওয়া”।

কাঁচকে মিহীন ভাবে গুড়ো করে তার সাথে নানা উপকরণ মিশিয়ে তৈরি হতো মাঞ্জা। উপকরণ ভেদে এর ধার হতো কম বা বেশি। আমিও ঠিক করলাম ঘুড়ির সুতায় মাঞ্জা দিবো। আমাদের এক বন্ধু, সে খুব ভাল মাঞ্জা দিতে পারতো। গেলাম তার কাছে। সে সুতার পরিমান শুনে হিসাব করে বললো সাড়ে দশ আনা লাগবে। আমি বাসায় এসে আম্মার মেজাজ মর্জি বুঝে পয়সাটা চেলাম। আম্মাও পয়সাটা দিয়ে দিলো। বিকেলে বন্ধুদের আসরে কথাটা বললাম। সবাই শুনে বললো, তুই ডিমের মাঞ্জা দে।ডিমের উপকরণ সহ বানানো মাঞ্জা ছিলো সবচেয়ে ধারালো। কথাটা আমার সেই বন্ধুকে বললাম। শুনে সে আবার হিসাব করে বললো আরো চার আনা বেশি লাগবে।

এই চার আনা কিভাবে ম্যনেজ করবো তা নিয়ে সারা সন্ধ্যা, রাত্রি ধরে চললো আমার গবেষণা। পরে একটা সমধান পেলাম। কাল বাজার করতে যাবো এবং সেখান থেকে চার আনা ম্যানেজ করবো। পরদিন সকালে আম্মাকে বললাম আম্মা আজ আমি বাজার করবো। আম্মা আমাকে আড়াই টাকা দিয়ে বাজারের যে ফর্দ দিলেন, তা ছোট হলেও আজও ভুলি নাই। মাছ, তরকারি আর দু আনার পান, দু আনার সুপারি। আমি বাজারে গিয়ে দেড় টাকা দিয়ে ইলিশ মাছ কিনলাম, আট আনার সবজি আর চার আনার পান সুপারি। একুনে খরচ হলো দু টাকা চার আনা। হাতে বহু আকাক্ষিত চার আনা।

সারা পথ চার আনা হিসাব মাছ বা তরকারী কোনটার দামের সাথে যোগ করবো তাই ভাবতে লাগলাম। মাছের দাম। তখন জিনিসের দাম প্রায় ফিক্স থাকতো। মাছের দাম দু আনা বেশী বললে ধরা পরে যাবো আবার তরকারীর দাম দু আনা বেশি বললেও আম্মা বুঝে ফেলবে।

এভাবে বাজার থেকে বাসা প্রায় এক মাইল পথ হেটে বাসায় আসা পর্যন্ত হেটেও চার আনা কিছুর সাথে যোগ করতে না পেরে সততার পথটাই বেছে নিলাম। আম্মাকে সব হিসাব ঠিকমত বুঝিয়ে সাহস করে বললাম আম্মা,এই চার আনা আমি নেই। আম্মা আমার সততার বা পরিশ্রমের মুল্য, যাই হোক, চার আনা আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি মুহুর্তের মধ্যে আমার স্বপ্নের ডিমের মাঞ্জা দেখতে পেলাম। হয়ে গেল ডিমের মাঞ্জা, আমি এখন মনের সুখে আকাশে স্বপ্নের ঘুড়ি উড়াই।

This is one of the childhood stories from a series of short tales written by my father. I really admire these posts because it gives me a perspective, through my father’s eyes, on how things were and what a child/young adult’s life was like in rural and even urban Bangladesh during the 60s and 70s.

Featured Image Credit: Aaron Burden

Share

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *